Home / Top News / samajerkatha / এমএম কলেজে লাল শাপলার হাসি

এমএম কলেজে লাল শাপলার হাসি

এমএম কলেজে লাল  শাপলার হাসি জাহিদ হাসান
সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের পশ্চিম দিকে তাকালে লাল রঙের সমারোহে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। কলেজ ক্যাম্পাসের খেলার মাঠের পাশে রয়েছে ছোট্ট একটি জলাধার। আর ওই জলাধারজুড়ে লাল রঙা হাসি মেলে ফুঁটে আছে শাপলার দল। শুধু এখানটায় নয়; অদূরেই কলেজটির একাডেমিক কাম এক্সামিনেশন ভবনের পাশের আরেকটি জলাধারও রক্ত রাঙা শাপলায় ভর্তি।
জলাধার দুটির মাঝ দিয়ে রয়েছে হাঁটাচলার কংক্রিটের পথ। এখান দিয়ে যাওয়া আসার সময় লাল রঙা শাপলার মনোরম দৃশ্য সবার নজর কাড়ে। কলেজে ঢোকার সময় এদিকটায় চোখ পড়লে একটু থেমে যান পথিক। জলাধারের কাছে গেলে দেখা যায়, মনোরম সৌন্দর্য্য নিয়ে মাটির তল থেকে উঠে আসা ডাঁটার মাথায় তারার মত পাঁপড়ি মেলে আছে শাপলার দল। সেইসাথে চোখে পড়ে পানিতে ভেসে থাকা থালার মতন গোলাকৃতির শাপলার বড় বড় পাতা। পাতার রঙ বেশ গাঢ় সবুজ। শাপলার পাতায় ছেয়ে আছে জলাধার দুটি।
দেশে এখন হেমন্তকাল। হালকা শীতের শিশির ভেজা ঋতু হেমন্ত। তাই খুব সকালের দিকে কলেজের এই জলাধার দুটির জলে ফোটা লাল শাপলা আরো বেশি সৌন্দর্য্য নিয়ে ধরা দেয়। হেমন্ত সকালের নরম রোদ যেন হিরের দ্যুতি ছড়ায় শাপলার পাঁপড়ি ও পাতায় জমে থাকা বিন্দু বিন্দু শিশির কনায়।

জানা যায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রয়াত অধ্যক্ষ প্রফেসর মিজানুর রহমান কলেজের দুটি ডোবা পরিষ্কার ও খনন করান। সেখানে শিক্ষার্থীরা লাল (রক্ত) শাপলার কয়েকটি মুড়া রোপণ করেন। এখন পুরো জলাধার ভরে গেছে শাপলায়।
কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ সূত্র জানায়, বাংলাদেশের ঐতিহ্য জাতীয় ফুল শাপলা। যার ইংরেজি নাম (ডধঃবৎ ষরষু) এবং বৈজ্ঞানিক নাম (ঘুসঢ়যবধ হড়ঁপযধষর) কিন্তু লাল শাপলার ইংরেজি নাম (ঘুসঢ়যবধ ৎঁনৎধ)।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এসএম আইয়ুব হোসেন জানান, শাপলা ফুল দিনের বেলা ফোটে এবং সরাসরি কাণ্ড ও মূলের সঙ্গে যুক্ত থাকে। শাপলার পাতা আর ফুলের কাণ্ড বা ডাঁটি পানির নীচে মূলের সঙ্গে যুক্ত থাকে। আর মূলযুক্ত থাকে মাটির সঙ্গে এবং পাতা পানির ওপর ভেসে থাকে। মূল থেকেই নতুন পাতার জন্ম নেয়। পাতাগুলো গোল এবং সবুজ রঙের হয়। কিন্তু নীচের দিকে কালো রঙ। পাতার আকার ২০ থেকে ২৩ সেন্টিমিটার। এ ফুলে ৪ থেকে ৫টি বৃতি ও ১৩ থেকে ১৫টি পাঁপড়ি থাকে। ফুলগুলো দেখতে তারার মতো মনে হয়। শাপলা ফুটতে দেখা যায় বর্ষা, শরৎ ও হেমন্তে।
কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুজ্জামান বলেন, কলেজের লেকে ফোটা লাল শাপলা আমাদের মুগ্ধ করেছে। এর সৌন্দর্য্য দেখতেই ক্লাসে যাবার আগে বা পরে এখানে ছুটে আসি। তাছাড়া প্রাকটিক্যাল ক্লাসে প্রয়োজন পড়ে।
কলেজের ইংরেজি বিভাগের অফিস সহকারী সাজ্জাত হোসেন জানান, ফুল ফোটার মৌসুমে প্রতিদিনই কলেজের দুই জলাশয়ে প্রচুর সংখ্যক লাল শাপলা ফোটে। সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, দর্শনার্থীসহ সবাইকে জলাধার দুটির সামনে দিয়ে চলার সময় লাল শাপলার সৌন্দর্য্যে থমকে দাঁড়াতেই হবে।
অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু তালেব মিয়া জানান, কলেজের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির কাজ চলছে। সেই লক্ষ্যে দুই জলাধারের আরো পরিচর্যা করা হবে। লাল (রক্ত) শাপলা ফোটার পর শুধু শিক্ষার্থীদের নয় অভিভাবক, দর্শনার্থীদেরও মন উৎফুল্ল করে।


Source link

About Samajer Katha

Check Also

যশোর এমএম কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রের উপর হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর এমএম কলেজ ক্যাম্পাসে রমজান আলী (২১) নামে এক ছাত্রকে একই কলেজের …

যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ।। বর্ণাঢ্য আয়োজনে সুবর্ণজয়ন্তী ও পুনর্মিলনী উদযাপনের প্রস্তুতি, বাড়ল নিবন্ধনের সময়

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সুবর্ণজয়ন্তী ও পুনর্মিলনী উদযাপন করতে যাচ্ছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *