Home / Top News / samajerkatha / ক্ষেতের চেয়ে তিনগুণ দাম বাজারে

ক্ষেতের চেয়ে তিনগুণ দাম বাজারে

বাড়তি দামের ফায়দা লুটছে ফড়িয়ারা

ক্ষেতের চেয়ে তিনগুণ  দাম বাজারেসালমান হাসান রাজিব
বেশ কিছু দিন ধরেই যশোরের বাজারে শীতকালীন শাকসবজি আসতে শুরু করেছে। ফুলকপি, পাতা কপি, শিম, টমোটোর মতন শীতকালীন সবজিতে বাজার ভরে গেলেও দাম অত্যন্ত চড়া। শীত মৌসুমের এসব সবজির বেশির ভাগেরই দাম কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকার বেশি। তবে বাজারে দাম এমন বেসামাল হলেও কৃষকদের কাছ খুব অল্প দামেই এসব তরকারি কিনছে ফড়িয়ারা। আর ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে কেনা সবজি খুচরা বাজারে তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি চলছে। ফড়িয়ারা সংঘবদ্ধ একটি সিন্ডিকেটের সাথে যোগসজাশ করে এই বাড়তি দামে ফায়দা লুটছে।
জানা গেছে, যশোর সদরের চাঁচড়া, আরবপুর, চুড়ামনকাটি, হৈবতপুরসব আরো বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ফসলের ক্ষেতে সারা বছরই তরকারির চাষবাদ চলে। আর যশোর সদর থেকে এসব সবজির ক্ষেতের কোনটারই দূরত্ব ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটারের বেশি নয়। তাই ক্ষেত থেকে শহরের বাজারে পরিবহন খরচ এত বেশি নয়, যার জন্য কৃষকের কাছ থেকে কেনা সবজির দর তিন গুণ হবে।
সরেজমিন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, যশোরের শাকসবজির বাজার এতই চড়া যার ফলে শুধু তরকারি কিনতে হলেই কাড়িকাড়ি টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। দাম হুহু করে বেড়ে চলায় নাভিশ^াস ওঠার দশায় সীমিত আয়ের মানুষ। মাছ মাংশ কেনা দূরে থাক, তরিতরকারি কিনতে গিয়ে পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে তাদের। বাজার ভর্তি শীতকালীন সবজি থাকলেও তাতে হাত দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমনকি আলু, পটল, উচ্ছে, ঝিঙে, বেগুন, কাকরোলের বাজার দর অনেকটাই বেশি। প্রতি কেজি পেঁয়াজের কালির দাম ২০০ টাকার উপরে। আর পেঁয়াজের দাম এখনও কমেনি। ২০০ টাকার উপরে দেশি পিঁয়াজ কেজি বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সপ্তাহ খানেকের ব্যবধানে বেড়েছে ভোজ্য তেল ও চালের দামও। সয়াবিন তেলের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ৮০ থেকে ৮২ টাকা কেজি দরের সয়াবিন তেলের দাম ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় এসে ঠেকেছে। চালেরও বাজার দর অনেকটাই বেড়ে গেছে। ৩৮ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরের সরু চাল এখন ৪২ থেকে ৪৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতারা বলছেন, দাম বাড়ার মতন যৌক্তিক কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। তাদের দাবি, বাজারে শীতকালিন সবজির সরবরাহ অনেক দিন ধরেই। শীতকালের তরিতরকারিতে বাজার ভর্তি। তারপরও দামের কেন এমন উর্ধ্বগতি সেটি বোধগম্য নয়। তবে বাজারে শীতকালিন সবজির দাম বেশি হলেও কৃষকরা তাতে খুব বেশি একটা লাভবান হচ্ছেন না। মাঠ থেকে কম দামে তরকারি কিনে বাজারে বেশি দামে বিক্রি করে পকেট ভর্তি করছে ফড়িয়ারা। আবার বাজারে একটি সিন্ডিকেট রয়েছে যারা ফড়িয়াদের সাথে যোগসাজশ করে বাড়তি দামের এই মুনাফা লুটছেন। বাজার ঘুরে অনুসন্ধান পর এমনটাই জানা গেছে।
শুক্রবার বিকেলে যশোর সদরের চাঁচড়া ইউনিয়নের সাড়াপোল গ্রামে হরিনার বিলে কৃষক আতাউর রহমান ক্ষেত থেকে পাতা কপি ও ফুল কপি তুলছিলেন। আলাপচারিতায় জানান, সকালে শহর থেকে পাইকারি সবজি ব্যবসায়িরা আসবেন। তাদের কাছে বিক্রির জন্য এগুলো তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, এখানকার ক্ষেত থেকে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ দরে ফুলকপি, পাতা কপি কিনে নিয়ে যায় শহর থেকে আসা কারবারিরা। ফুল কপি কিংবা পাতাকপির আকারের উপর দাম কম বেশি হয়। ফুল কপি বা পাতা কপির যেগুলোর ওজন এক কেজির বেশি হয় সেগুলোর দাম বড়জোর মনপ্রতি ৮০০ টাকার বেশি হয় না বলে আরও জানান তিনি।
তবে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, যশোর শহরের কাঁচা তরিতরকারির বাজারে প্রতি কেজি ফুল কপি, পাতা কপির দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। কিন্তু মাঠ থেকে ফরিয়ারা এসব সবজি ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে কিনছেন।
সম্প্রতি যশোরের বড়বাজার, রেলবাজার, চাঁচড়ামোড়, পুলেরহাটসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে কাঁচা তরিকারির দামের আগুন লক্ষ্য করা গেছে। এসব বাজারে প্রতি কেজি নতুন আলু ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পুরাতন আলু ৩২ থেকে ৩৫ টাকা, গোল বেগুন ৬০ টাকা, পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, উচ্ছে ৫০ থেকে ৬০, কাকরোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে চীন থেকে আনা পেঁয়াজ ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, মিশর থেকে আনা একটু ভালো মানের পেঁয়াজ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। দেশি পেঁয়াজের দাম ২২০ টাকার উপরে।
শহরের রেলবাজারে কেনকাটা করছিলেন ব্যবসায়ী দীন মোহামম্মদ। সবজির বাড়তি দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাজারে প্রচুর শীতের সময়কার তরকারি এসেছে। এমন নয় যে কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ চলছে। যার কারণে দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।

 


Source link

About Samajer Katha

Check Also

ক্ষমা চেয়ে পার পেলেন ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার

মোবাইল কোর্টে এক ব্যক্তিকে সাজা দেওয়ার চার মাস পার হলেও আদেশের কপি না দেওয়ার ঘটনায় …

গুজব ছড়িয়ে জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছে বিএনপি-জামায়াত

অসত্য খবর প্রচারের মাধ্যমে সমাজকে আবারও অস্থির করার চেষ্টা করছে বিএনপি-জামায়াত। তারা গুজব ছড়িয়ে জিনিসপত্রের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *